লন্ডনের ডেইলি মিরর পত্রিকা বাংলাদেশে সাংবাদিক পাঠিয়ে, অনুসন্ধান চালিয়ে
দাবী করেছে যে রেশমা উদ্ধারের ঘটনা ছিল একটা সাজানো নাটক । আজকের মিরর
পত্রিকায় সে নিউজ বেরিয়েছে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ধুকে ধুকে বেঁচে থাকা
আমারদেশ পত্রিকার একটি অনুসন্ধানী রিপোরটে ব্যবহৃত তথ্য-উপাত্ত ভেরিফাই
করে মিরর তার প্রতিবেদন ছাপিয়েছে। যাদের চেতনা থাকে সদা উত্থিত, তারা
চক্ষু লজ্জার কারণে আমারদেশের মূল প্রতিবেদনটি না পড়লেও, মিররের
প্রতিবেদনটি পড়বেন বলে আশা করি।
রেশমার ঘটনাটি যদি সত্যিই একটা
নাটক হয়ে থাকে , তাহলে বলতে হবে রেশমা নাটকের স্ক্রিপ্টে অনেকগুলো দূর্বলতা
ছিল। সবচাইতে বড় দুর্বলতা ছিল নাটকের অভিনেত্রী নির্বাচনে। নিরমাতাদের
উচিত ছিল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটকে এই অভিনেত্রী সাপ্লাইয়ের কাজটা দেয়া।
তা না করে নিরীহ এক গার্মেন্টস কর্মীকে দিয়ে নাটক সাঁজাতে গিয়ে এমন এক
পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে শেষ পর্যন্ত সরকারী নিষেধাজ্ঞা বসাতে হয়েছে
রেশমার সাথে সাংবাদিকদের কথা বলায়। ডেইলি মিররও খুব সম্ভবত রেশমার সাথে কথা বলতে পারেনি। বলা বাহুল্য, বিদেশী সাংবাদিকরা কথা বলার উপর আরোপিত যে কোন নিষেধাজ্ঞাকেই খুব নেগেটিভ ভাবে দেখেন।
রেশমা নাটকের পটভূমি ডেইলি মিরর ঠিক ভাবে উল্লেখ করেনি। হয়তো ওরা বুঝতেও
পারেনি। এই নাটক মঞ্চ্যয়িত হয়েছিল মে মাসের ১০ তারিখ। তার মাত্র ৫ দিন আগে
শাপলা চত্বরের ঘটনা ঘটেছে। আর ১৭ দিন আগে ঘটেছে রানা প্লাজা। এই দুই ঘটনাই
বাংলাদেশের ইতিহাসে কু-খ্যাতির মেধা-তালিকায় শীর্ষস্থান প্রাপ্ত। মাত্র
ক'দিনের ব্যবধানে এই জোড়া ঘটনায় মোট কত মানুষ নাই হয়েছেন তার এক্সেল
স্প্রেড শিটের কাজ এখনো চলছে।
যে গরীব গারমেন্টস শ্রমিক রেশমা
রহস্য ভেদে মূল ভুমিকা পালন করেছেন, তার জীবনের নিরাপত্তা কে দিচ্ছে তা কেউ
কোথাও উল্লেখ করছেন না। এই শ্রমিক বুঝে হোক না বুঝে হোক, দেশের অতি
ক্ষমতাবান কিছু নাট্য-পরিচালকের লুঙ্গির গিট্টু খুলে দিয়েছেন। একারনে,
মায়াবতী কিন্তু ক্ষমতাবান এমন কাউকে অনুরোধ করছি এই গরিবকে বাচিঁয়ে রাখার
কাজটি হাতে নিন।
রেশমার ঘটনা নিয়ে যা খবর বেড়িয়েছে তা যদি আসলেই
সত্য হয় তাহলে বিদেশিদের কাছে অনেকগুলো দেশিয় প্রতিষ্ঠানের
বিশ্বাসযোগ্যতা নস্ট হয়ে যাবে। সবচাইতে বড় ক্ষতি হবে আমাদের দেশপ্রেমিক
সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তির। একটি চৌকশ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেনাবাহিনীর উচিত হবে
রেশমা ঘটনাটি খূব ভালো ভাবে বিশ্লেষণ করার। যদি মিররের প্রতিবেদনে ভুল
ত্রুটি থেকে থাকে তাহলে সেনাবাহিনীর অবশ্যই উচিত হবে তা কার্যকর ভাবে তুলে
ধরার এবং সর্বপরি এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেবার।
১১
বছর বয়সেই বাবা হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের এক কিশোর। তার সন্তানের মা ৩৬ বছর
বয়সী এক নারী।অকল্যান্ডের নর্থ আইল্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। তবে
গণমাধ্যমে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। ওই নারী কিশোরটির বন্ধুর মা বলে
নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
এদিকে, ওই নারীর বিরুদ্ধে কেন ধর্ষণের
অভিযোগ আনা হবে না—এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে দেশটিতে।উপযুক্ত প্রমাণের
অভাবে ওই নারীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন
দেশটির মানবাধিকার কর্মীরা।
তবে, মানবাধিকার কর্মীরা এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
যদিও দেশটির আইনে শুধু পুরুষদের বিরুদ্ধেই ধর্ষণ মামলা করা যায়। এ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ২০ বছরের কারাদণ্ড।
এদিকে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির আইনমন্ত্রী জুডিথ কলিনস।
তিনি নিউজিরল্যান্ড হেরাল্ড পত্রিকায়
দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে নিয়ে
এসেছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন না হলেও কর্মকর্তাদের
সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান তিনি।
এদিকে, ওই কিশোরের স্কুলের অধ্যক্ষ নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে জানান, ঘটনাটি শোনার পর তিনি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন।
তিনি বলেন, “গতবছর ওই কিশোর তাকে বিষয়টি
জানায়। তখনই তিনি ওই কিশোরকে এটা বন্ধ করতে বলেন। এই ঘটনা প্রমাণিত হলে ওই
নারীকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে বলে জানিয়েছে দেশটির একটি পুরুষ নির্যাতন
প্রতিরোধ সংগঠন।
নিউজিল্যান্ডের আইনে শুধু পুরুষদের
বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা গেলেও কোনো নারী যদি কোনো পুরুষকে যৌন নিপীড়ন
করে তাহলে তার সর্বোচ্চ ১৪ বছরের জেল হতে পারে।”
এদিকে, দেশটির জনকল্যাণ কর্তৃপক্ষ
শিশুটিকে দুইমাস আগে তাদের হেফাজতে নিয়ে এসেছে। তারা আদালতে যাওয়ার আগেই
বিষয়টি নিয়ে কাজ করছিল বলে জানিয়েছে। তবে, এ ব্যাপারে তারা বিস্তারিত
জানাননি। পুলিশ এ ব্যাপারে মুখ খোলেনি। সূত্র: নতুনবার্তা/এএফপি